শুক্রবার, ১০ মে, ২০১৩

দিনলিপি ১০.০৫.২০১৩

সেই সকাল ছয়টা বাজে ঘুমিয়েছি। সারা রাত গেম খেললাম বহুদিন পর। যদিও গেম খেলার বয়সটা পিছনে ফেলে এসেছি, তাও মাঝে মাঝে কোনো কোনো গেম মাথায় ঢুকে যায়। এবারও তাই। ফুটবল ম্যানেজার খেলতে খেলতে শহীদ হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমি যে সারারাত জেগে ছিলাম তা কি আর আমার বউ জানে নাকি। কাজেই এগারোটা বাজেই ফোন আর ফোন। জিমে যাবার তাগাদা। এর পর নাকি আবার জুম্মার নামাজটাও ভালোয় ভালোয় আদায় করতে হবে। কি বিরক্তিকররে বাবা। একটা ছুটির দিনও কি শান্তিমতন কাটাতে পারবো না? পারবো না কেনো? অবশ্যই পারবো। বউকে বাধ্য ছেলের মতন বললাম এই তো উঠেছি, জিমে ছুটেছি। ফোন রেখে গড়াগড়ি করলাম আধা ঘন্টা। হাই তুলতে তুলতে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। মাসখানেক ধরে ভাবছিলাম চুল কাটার কথা তাই পুরান আধোয়া গেঞ্জিটা পড়ে বের হলাম। কি গন্ধ উফ। যাই হোক, আপাতত সহ্য করে নেই।

প্রথমেই পেপার স্ট্যান্ড। শুক্রবারের পত্রিকা পড়ার মজাই আলাদা। প্রথম আলোই কিনলাম। এছাড়া তো আসলে উপায়ও নাই, তা না হলে প্রথম আলো কিনতাম না। সুবিধাবাদের শেষ মত্রায় পৌছে গেছে প্রথম আলো। তাও কিনি। কামরু শুয়ারটার ফাঁসির খবর হেডলাইন, আর এস এস স্যার রেজাল্ট। নট ব্যাড। মুশফিকের পদত্যাগের ফলোআপ পড়লাম। কি জানি কি প্যাঁচ যে আছে এর মাঝে। তবে পাপনের এইভাবে বলাটা উচিৎ হয় নাই। মুশফিকের সাথে তার কি কথা হইসে এইটা নিজের কাছে রাখলেই পারতো। রিয়াল জিতসে। কি লাভ। লীগও পাইলো না, কাপও না। ধুচ্ছাই। ফার্গির ব্যাটন ময়েসের হাতে। ময়েস!? গ্রেট চয়েজ ইনডিড।

পেপার হাতে নিয়েই ঢুকে পড়লাম হোটেলে। পেট ঠান্ডা না করে মাথা হালকা করার দরকার নেই। কড়া ভাজি পরোটা আর ডাল ভাজি, সব শেষে এক কাপ চা। আহ। সকাল তো এখনই যদিও ঘড়িতে সাড়ে বারো বাজে। যাই হোক, চুল কেটে ফেললাম। কি কাট দিলো খোদাই জানে। চুল কাটা হতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত আমি সাধারণত আয়না দেখি না। নিজেই নিজেকে দেখে চিৎকার দিয়ে ফেললে বিতিকিচ্ছিরি ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। যাক, কাজ আপাতত শেষ। চুলের জন্যে জেল কিনলাম। আগেরটা শেষ। সেই সাথে দুপুরের খাবারের জন্যে এক হালি ডিম। নাহ, সবগুলাই দুপুরে খাবো না। ভয় নেই। হেটে হেটে ফিরলাম। টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছিলো। মজাই।

বাসায় ঢুকেই নেট চালু করলাম। বউকে ফোন দিয়ে বললাম জিম করা শেষ, চুল কাটাও। গোসল শেষেই নামাজে যাবো। বসে গেলাম নখ কাটতে। শেষ কবে কেটেছিলাম অনেক ভেবেও মনে পড়লো না। রাক্ষস রাক্ষস লাগছিলো নিজেকে। কাটতে কাটতেই ১টা ২০ বেজে গেলো। বউকে ফোন দিয়ে জানালাম নামাজে যাচ্ছি। ঢুকে গেলাম গোসলে। শ্যাম্পু দিয়ে ম্যাসেজ করলাম মাথা, তারপর শেভ, সাবান। উফ। শুক্রবারের গোসলটাও আসলে এক বিরাট হ্যাপা। বের হয়ে নেটে ঢুকে স্ট্যাটাস মারলাম ফেবুতে। তারপর জাপানী মাঙ্গা পড়তে ব্যাস্ত হয়ে পড়লাম।

মাঙ্গা আমার আরেক নেশা। পাগলের মতন পড়ি। ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির অভ্যাস ছিলো। রঙ তুলি দিয়ে না এঁকে, পেন্সিল স্কেচ করতাম। এই জাপানী মাঙ্গাগুলা পেন্সিল স্কেচের এভারেস্ট। এত অপূর্ব বলার মতন না। রঙ চঙে কমিকসের চাইতে এই ভালো। কাহিনীও অন্য মাত্রার। "নারুতো", "ব্লীচ", "ওয়ান পিস"-এর নতুন পর্বগুলো পড়লাম। "বীলজেবাব" আর "ব্রেকারঃনিউ ওয়েভ"- এরটাও। এরপর "আইশীল্ড ২১" খুলে বসলাম। পুরোনো সিরিজ। আমার কাছে নতুন আর কি। ফেবু ক্লোজ করে মেইলে ঢুকলাম। কি মনে হলো নতুন জিমেইল আইডি খুললাম। ব্লগার আইডিও। হুদাই।

ব্লগার সেটিং, এই সেই নিয়ে, গুগল প্লাস নিয়ে নাড়াচাড়া করলাম বেশ কিছুক্ষণ। এই সময় বউ ফোন দিলো। সাভারের ধ্বংসস্তুপের মধ্যে একজনকে জীবিত পাওয়া গেছে। রেশমা। ফোন রেখে অবাক হয়ে বসে থাকলাম কিছুক্ষণ। সো, মিরাকল হ্যাপেনস?! একটু পরে আবার ফোন। রেশমা নাকি নীচতালায় মসজিদের এখানে আটকা পড়ে ছিলো। আমি মুচকি হাসলাম। আগামী কয়েকটা দিন অনলাইন বেশ গরম থাকবে আলৌকিকত্ব নিয়ে, সন্দেহ নেই। বউয়ের সাথে কথা বললাম ঘন্টাখানেক। রেশমাও উদ্ধার পেয়ে গেলো এরই মধ্যে। ফোন রেখে গেলাম নুডুলস করতে। খিদে পেয়েছে।

ম্যাগী টু মিনিট করতে ৩০ মিনিট লাগলো। সস দিয়ে জমিয়ে খেলাম, সাথে কফি। এর মাঝেই কারেন্ট চলে গেলো। ল্যাপির চার্জও গন। শুয়ে শুয়ে আকাশ পাতাল আগডুম বাগডুম হাজারো কথা ভাবলাম। বদভ্যাস। ঘন্টা দুয়েক পর কারেন্ট আসা মাত্র আবার নেট। মাঙ্গা। ফেবু। এবং অবশেষে এই ব্লগ লিখতে আসা। আমি যেরকম খেয়ালি মানুষ তাতে এই প্রথম ব্লগ আমার শেষ ব্লগ হয়ে যেতে পারে। অস্বাভাবিক কিছু না। তাও বলি আজ এ পর্যন্তই। আগামীতে আবার দেখা হবে। আশা রাখি। যাই, ইতালিয়ান সিরি বি জিতে আসি গিয়ে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন