শনিবার, ১১ মে, ২০১৩

দিনলপি ১১.০৫.২০১৩



কাল রাতে ঈদ ছিলো। না না, আমার না। মশাদের। ভূলেই গিয়েছিলাম যে কয়েল শেষ। যখন মনে হলো তখন রাত প্রায় এগারোটা বাজে। আর এই গন্ডগ্রামে রাত আটটা বাজতে না বাজতেই দোকান-পাট সব বন্ধ হয়ে যায়। কাজেই মনে মনে প্রস্তুতি নিলাম অগ্নিপরীক্ষার। কিন্তু পরীক্ষায় লাড্ডু গুড্ডু মারলাম সাফল্যের সাথে। আধুনিক ওয়ার ট্যাকটিস খাটাইয়া মশার পাল আমাকে হোয়াইট ওয়াশ করে দিলো। সারা রাত এপাশ ওপাশ আর চটাশ চটাশ। আগাসে গোড়া লাল লাল দাগ নিয়ে যখন ঘুমাতে গেলাম তখন রাত প্রায় ৫ টা বাজে। রেয়াত তো আর না। সকাল। এর মধ্যে আবার এই খানে এক দু ফোঁটা বৃষ্টি পড়া শুরু হলো কি হলো না, কারেন্ট গন। কারেন্ট থাকলে তাও ফ্যান ছেড়ে লেপ গায়ে দেয়া যেতো। তারও উপায় রইলো না। বরং ঘামতে ঘামতে ঘুমালাম আর উঠলাম।

উঠে দেখি বউয়ের কল। মনের মধ্যে সন্দেহ নিয়ে ঘড়ির দিকে তাকালাম। সাড়ে ছয়। হোয়াট দা ফাক। চকিতেই মনে পড়লো আজ বউয়ের ঢাকা যাবার কথা। কাজেই ঘুমের গুষ্টি উদ্ধার করতে করতে বউয়ের সাথে গ্যাঁজালাম ঘন্টাখানেক। ফোন রাখার আগেই বুঝি ঘুমিয়ে পড়লাম। উঠে পড়লাম ঠান্ডা লাগাতে। কারেন্ট এসেছে। সেই সাথে বাইরে বাতাস আর বাতাস। ঘরের ভেতর জমে যাবার অবস্থা। লেপ টেপ টেনে ঘুম দেয়ার আগে বউকে ফোন দিয়ে জেনে নিলাম। এরাইভড সেফ এন্ড সাউন্ড। আবার উঠে দেখি বাজে এগারো। উঠে পড়লাম। আসলে খিদা লাগসে। তা না হলে এতো তাড়াতাড়ি উঠে কোন শালায়। ফ্রেশ হয়ে বের হলাম।

গতকালের পেপার এখনো নিপাট নিভাজ হয়ে পড়ে আছে তাও আজকের পেপার কিনতে পয়ঁছালাম স্ট্যান্ডে। এবং পরথম আলুর কারনে সকাল সকাল মেজাজ খিচড়ে গেলো। বালের জরিপ চুদাইসে খা পোরা। তিন হাজার লোকের মত দিয়া কি হ্যাডা বুঝাইতে চায় শুয়ারের বাচ্চারা। আমি নিজেও তো এর চাইতে ভালা জরিপ চালাইতে পারি। এই রকম দুই মুখা-সুবিধাবাদী-ভেকধরা স্বভাবে কারনে পরথম আলুরে ভাল্লাগে না। মতিরে ধইরা ভইরা দিতে খুব মন চাইতেসিলো। কিন্তু নিস্ফল আক্রোশে দাঁত কিড়মিড় করা ছাড়া আর কিছু করার ছিলো না। কি আর করা। নাহ, খুব দ্রুত অন্য কোনো পেপার পড়া শুরু করা লাগবে। সমকাল-টাই মনে হয় ভালো।

হেডলাইন রেশমাকে নিয়া। অত্যন্ত স্বাভাবিক। খেলার পাতা উল্টালাম। হিথ স্ট্রিকের বাগানবাড়িতে ঘুরতে যাওয়ার সাধ হলো খুব পড়ে। এইটাই আসল লাইফ। শহর মানেই আসলে ইটের খাঁচায় বন্দী থাকা। বাংলাদেশ আজকে কি করবে কি জানে। তবে টিম মোরাল যে তলানিতে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। দেখা যাক। রুনিও নাকি চলে যাবে। ইউনাইটেডের যে খবর হয়ে যাবে সামনের দুই তিন মৌসুমে সন্দেহ নেই। মজা পেলাম ক্যামব্রিয়ানের স্পোর্টস একাডেমির কথা শুনে। জাশি আসলে বহুদূর ভাইবা আগায়। সেইখানে অইন্যান্যরা বইসা বইসা আঙ্গুল চুষে। ফেদেরারের হারার খবর শুনে একটু খুশী খুশী লাগলো। আই হেইট হিম।

আবারো পরোটা ভাজি চা খেয়ে হেটে হেটে বাসায় ফিরলাম। কিনে আনলা দুইটা সিঙ্গারা আর দুইটা সমুচা। দুপুরের খাবার। আইসা ল্যাপি অন করলাম। গেম চালু করলাম সাথে পেপার পড়াটাও। কিছুক্ষণের মধ্যেই হুলুস্থুল বৃষ্টি আর ঝড় শুরু হয়ে গেলো। জানালা খুলে পর্দা সড়িয়ে দেখতে থাকলাম। অপূর্ব। গান ছেড়ে দিলাম। ফসিল।
                                        “এতোটা পথ পেড়িয়ে
   এসেছি তবু দুজনে
যেনো হয়ে গেছি আরো
   অচেনা...অচেনা...”
বৃষ্টি থেমে গেলে পরে ভাবও উধাও। আবার গেম খেলতে বসলাম। এবং হারাইয়া গেলাম টিম ম্যানেজম্যান্টে।

বউয়ের ফোনে হুঁশ ফিরে আসলো। শিট। আড়াইটা বাজে। ফোন ধরলাম। গ্যাঁজালাম। কারেন্ট নাই। এরই মাঝে ল্যাপিও অফ হয়ে গ্যালো। মেজাজ হয়ে গেলো ফরটি নাইন। কথা বলা শেষ করে খেলাম। সাথে মাসুদ রানা। রিভাইজ। মাঝে মাঝে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করি, “কেনো রানা পড়ি?” আসলে এর কোনো উত্তর নেই। নির্মল বিনোদন। থ্রিল, একশন আর যৌনতার পারফেক্ট পাঁচফোড়ন দিয়ে বানানো উপাদেয় এক খাবার। একবার চাখলে বার বার খেতেই হয়। পড়া শেষে। লেপ মুড়ি দিয়া আরেকদফা ঘুম দিলাম। আবারো বউয়ের ফোন। চেম্বার থেকে নাকি ফোন দিসে। এখনি যেতে হবে। কান্না কান্না গলার স্বর। শরীর নাকি খারাপ লাগতেসে। বুঝাইয়া সুঝাইয়া আবার ঘুম দিলাম। কারেন্ট আসলো ছয়টায়। ঘুমও ভাংলো।

ল্যাপি অন তো গেইম অন। এই করে করে রাত সাড়ে সাত। বউয়ের সাথে মেসেজ মেসেজ খেললাম কিছুক্ষণ। ফোনে টাকা নেই তাই। সেই খেলাধুলার দিন তো আর নেই।  এরই মাঝে আমার বিছানা আর টেবিল দেখতে লোক আসলো। না, সেগুলা এমন কোনো আহামরি দ্রষ্টব্য বস্তু নহে। আসলে ট্রান্সফার হয়ে গেছে। শিগগিরি ঢাকা চলে যাবো। তাই বেঁচেই দিয়ে যাচ্ছি। আলগা বোঝা বয়ে নিতে ইচ্ছে করছে না। দরদাম করে চলে গেলো। নিশ্চিত কিনবেই নাকি। বেশ খুশী খুশী লাগছিলো। হাজার দেড়েক লাভ হবে বেঁচে। কিন্তু আধা ঘন্টা পড়েই ফোন। তার বউ নাকি সরাসরি বলেছে নতুন জিনিস না কিনলে সে তার সাথে সংসার করবে না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বুঝলাম শুধু আমি নই। এই দুনিয়ায় সবাই বউয়ের আঁচলের খোঁটায় ছাগলের মতন বাঁধা থাকে। হাহ।

বের হয়ে গেলাম বাজারে। নুডুলস শেষ। সাথে পেঁয়াজ আর আলুও। সব কিনে টিনে ফিরে আসলাম। রান্না চড়াতে হবে। এ এক বিশাল ঝামেলা। বিদেশে কি সুন্দর রেডিমেড ফুড পাওয়া যায় এখানে সেখানে। এত্ত ঝামেলার কোনো মানে হয় নাকি। তাও রাধলাম। কারেন্ট কানামাছি খেলতেসে। খেলো বাবা। তোমারই তো দিন। বাইরে বৃষ্টি আর ঝড় শুরু হয়ে গেলো। মহাসেন সাব কি এসে পড়লেন নাকি। দেখা যাক। আবারো জানালা খুলে বসলাম। গান ছাড়বো আর খাবো। সেই সাথে বজ্রপাত দেখবো। ফোনটা তিড়িং করে বেজে উঠলো। বউ। দীর্ঘশ্বাস ফেলে রিসিভ করলাম, “হা টুকু বল...”

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন